পিজি হাসপাতালে ঢুকলে মারধোর খেতে পারেন চিকিৎসকের হাতে!

2009 জানুয়ারি 19

কি অবাক হচ্ছেন তো? ভাবছেন হাসপাতালে গেলে কেন চিকিৎসকরা মারধোর করবেন? এ কেমন কথা?

না, ঘাবড়ে যাওয়া কিছুই নেই, যদি না আপনার পান কিম্বা পান মশলার নেশা থাকে। সম্প্রতি কোলকাতায় নামকরা সরকারি চিকিৎসালয় পিজি হাসপাতাল (SSKM Hospital) কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সেই হাসপাতালে পান খেয়ে পানের পিক যত্রতত্র ফেললে অথবা যত্রতত্র থুতু ফেললে “মারধোর খাবেন”। এবং এই ঠ্যাঙানো বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন নামীদামী চিকিৎসক ডঃ অভিজিৎ চৌধুরী স্বয়ং নিজেই।

এই নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বিস্তর বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যায় যাই হোক এবং উদ্দেশ্য যতোই সাধু হোক, তবু বিশ্বের কোনো সভ্য রাষ্ট্রে শ্রদ্ধেয় কোনো চিকিৎসক কি এই ধরনের বেআইনি বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন? গণতান্ত্রিক কাঠামোয় যেখানে আইনের বিচারের উপরে মানুষের আস্থা এখনো উঠে যায়নি সেখানে কিকরে সরকারি হাসপাতালে এমন বেআইনি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব? এই বিজ্ঞপ্তি কোনো দেওয়া লিখন না, কোনো পোস্টার না, একেবারে সরকারি টাকা খরচ করে জ্বলজ্বলে গ্লো-সাইন বোর্ড লাগানো হয়েছে।

যথারীতি চিকিৎসা অধিকর্তা গায়েব, উত্তর মেলেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রী দপ্তরে হাজির নেই, উত্তর সেখানেও মেলেনি। উপরোক্ত চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানিয়েছেন যে এতে বেআইনি কিছুই নেই, “শুধু কিছু কড়া কথা বলা হয়েছে”। এইভাবে আইনকে হাতে তুলে নেওয়ার জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত খাড়া করে দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় এক চিকিৎসক। ভাবা যায় কি? অপরাধ করলেই মারধোর দেবেন, এটাকে তিনি বেআইনি মনেই করেন না। সমাজের যাদেরকে মানুষ শ্রদ্ধা করেন, তারাই এই জাতীয় কথা প্রচারে নামলে সাধারন মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে কতোক্ষণ? এবং সেটা তারা করলে দোষের কিছু থাকবে না।

কারন, বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও বলা নেই যে শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ “মারধোর” দেওয়া অধিকার রাখছেন, অর্থাৎ, কর্তৃপক্ষ সামনে না থাকলে সাধারন জনতাই মারধোর দিয়ে দিতে পারেন। প্রশ্ন করলেই তারা সাইন বোর্ড দেখাবেন। আর, আপনারা তো জানেনই, যেকোনো সমাজেই ভদ্রসভ্যর পাশাপাশি অনেক অসামাজিক শক্তিও আমাদেরই আশেপাশে ঘোরাফেরা করে, তারা এই বিজ্ঞপ্তি পড়ে আইনত মারামারি করার সুযোগ পেয়ে যাবে। পুরো ব্যাপারটাই আইনের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া আর কিছুই না।

কি নিয়ে এতো কিছু? হ্যাঁ, আমরা সবাই জানি পান খেয়ে পানের পিক যেখানে সেখানে ফেলার বদ অভ্যাস প্রচুর লোকের আছে। আমাদের শহর থুতু ফেলে নোংরা করে রাখার অভ্যাস আমাদেরই মধ্যেকার অনেকজনের মধ্যেই আছে। কিন্তু একটি অপরাধের শাস্তি কি আরেকটি অপরাধ করে দেওয়া উচিত? আইন কি সেই কথা বলে? কখনোই না।

আমি ধিক্কার জানাচ্ছি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। ধিক্কার জানাচ্ছি ডঃ অভিজিৎ চৌধুরীকে। আপনারা চিকিৎসক, মানুষের সেবায় নিয়োজিত প্রাণ, তাই থাকুন, আইন হাতে তুলে নিয়ে অসামাজিক জীব হয়ে যাবেন না দয়া করে। পশ্চিমবাংলার মূখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে এই চরম বেআইনি বিজ্ঞপ্তি সরিয়ে নিন। নইলে অনতিবিলম্বে মানুষের আস্থা উঠে যাবে ডাক্তারদের উপর থেকে, এবং হাসপাতালে চিকিৎসার পরিবর্তে কুস্তির আখড়া হয়ে যাবে। হাসপাতালে মূমূর্ষু মানুষ যাওয়া আসা করেন সুস্থ্য হয়ে যাওয়ার আশায়, সেই স্থানে চিকিৎসকরা হয়ে উঠবেন ঠ্যাঙাড়ে সেইটা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায়না।

Institute of Postgraduate Medical Education & Research

Institute of Post Graduate Medical Education & Research at Kolkata; the SSKM Hospital, Kolkata

2 Responses leave one →
  1. 2009 জানুয়ারি 20
    সঞ্জয় permalink

    অন্য একটি দিকও আছে, যেমন টিভিতে দেখালো যে এর পরেও থুতু নিঃক্ষেপ অব্যাহত আছে, হাসপাতালে আগত রুগীর বাড়ির আত্মীয়রা কেউ পরোয়াও করেনি ওই সাইন বোর্ডটি। এইজন্যই ওই কড়া ভাষার কথা হয়তো বলেছেন ডাক্তার। তবে আমিও মানি যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো অজুহাতই মানা যায়না।

  2. 2009 জানুয়ারি 20
    মিতুল permalink

    আমি গতকাল স্টার আনন্দে দেখেছি এই খবর। সত্যি অবাক হয়েছিলাম সাইনবোর্ড দেখে। সাংবাদিকরাই যাই বলুক, তারা ইস্যু খুজে পেলেই হল, কিন্তু সাধারনভাবেই এইটা কারো ভাল লাগার কথা নয়, ভাবতেই পারছিনা যে তিলোত্তমা কোলকাতা কতোখানি গুন্ডাবাজির স্থান হয়ে গেছে। ডাক্তাররাও শেষে বাদ গেলেন না!

Leave a Reply

Note: You can use basic XHTML in your comments. Your email address will never be published.

Subscribe to this comment feed via RSS