আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদঃ- মূল মদত জোগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রই?

2009 ফেব্রুয়ারি 27

৯/১১ হামলার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সুরে অনেক কঠিন ভাব দেখা গিয়েছিল। সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করার লক্ষ্যে অনেক অঙ্গীকার, অনেক চিৎকার শোনা গিয়েছিল। এবং, অনেক যুদ্ধ। এমনকি ভুল খবরের ভিত্তিতেও যুদ্ধ করেছে তারা। আজও জ্বলছে সেইসব রাষ্ট্র, শান্ত হয়নি। কিন্তু মূল লক্ষ্য থেকে তারা সেদিন যতোখানি দূরে ছিল, আজও ততোখানিই দূরে তারা। সমস্ত অঙ্গীকার এবং চিৎকার ফাঁকা আওয়াজে পরিনত হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেকগুলি দেশের রাষ্ট্রনেতাদের বক্তব্য যে সন্ত্রাসবাদের সব রাস্তাই পাকিস্তানের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে, এবং সেইসব রাষ্ট্রনেতাদের এইসব বক্তব্যের পেছনে আছে তাদের নিজ নিজ গোয়েন্দা বিভাগের যুক্তিযুক্ত তথ্যাদি। সাম্প্রতিক মুম্বাই হামলার পরেও অসংখ্য তথ্যপ্রমান উঠে এসেছে যাতে পাকিস্তানের সরাসরি হাত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর নিজস্ব গোয়েন্দা বিভাগের হাতেও অকাট্য প্রমান আছে এইসবের।

শুধু তাই নয়, ২০০২ সাল থেকে আমেরিকা যতো টাকা দিয়ে এসেছে পাকিস্তানকে, সেইসব টাকা আত্মসাৎ করেছে পাকিস্তান, বহুল পরিমানে টাকা ঢেলেছে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তিবৃদ্ধিতে, এবং প্রচুর পরিমানে টাকা তারা আমেরিকার কাছে থেকে নিয়েছে কাগজপত্র জালিয়াতি করে, আজকে আমেরিকার অডিট দপ্তরের হাতে সেইসব প্রমান ইতিমধ্যেই ধরা পরেছে। ইতিপূর্বে টাকা আত্মসাৎ করার প্রমান তাদের হাতে ছিলই। তবু, তারপরের বর্তমানে ওবামা সরকার কয়েক বিলিয়ন ডলার আর্থিক প্যাকেজ পাকিস্তানকে দেবে বলে ঘোষণা করেছে।

এতো তথ্যপ্রমাণের পরেও আরো আর্থিক সাহায্য? হ্যাঁ, অবশ্যই আমেরিকা এতে যুক্তি দেখাচ্ছে। কিন্তু এইগুলিকে যুক্তি হিসেবে ভাবা উচিৎ? নাকি অজুহাত? নিজেদের দেশকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে তারা ভারতীয় উপমহাদেশে অশান্তি জিইয়ে রাখতে চাইছে। যেকোনো উপায়েই হোক, তাতে যতো টাকাই লাগুক, সন্ত্রাসবাদ যেন পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাতেই আমেরিকার সামান্য একটু সুরক্ষার আশা। অন্যথায়, আরো যুদ্ধ করতে হবে তাদেরকে। একে একে আর কতো দেশের সাথে তারা যুদ্ধ করবে? সে কি সম্ভব? নাকি মার্কিন নাগরিকরা এই ব্যায়বহুল যুদ্ধ আর বেশীদিন মেনে নেবে? এইসব অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একটিই উপায়, যুদ্ধ না করে সুরক্ষিত থাকার একটিই উপায় – দুই চিরশত্রুর মাঝেই ঝামেলা জিইয়ে রাখা, তাদেরকে নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে ব্যাস্ত রাখা, তাতেই বাঁচবে আমেরিকা।

আজকে ভারতের সম্পুর্ণ ভূমি সীমা প্রান্তর জ্বলছে আগুনে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন, নেপাল, বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমায় অশান্তির আগুন। বাকিটা সমুদ্র সীমা। এক এক দিন পার হচ্ছে, আর, ভারতীয়দের সুরক্ষা একটু একটু করে ফুরিয়ে আসছে।

আমেরিকা একটিমাত্র ৯/১১ ঘটনা বিশ্বের লোককে দেখিয়েই সন্ত্রাসবাদের লড়াইতে নিজেদের মূল সৈনিক হিসেবে দেখাতে চাইছে, অথচ বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশ আরও অনেক বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের সাথে লড়াই করছে, তখন তাদের চিন্তা ছিলনা। পরের ঘরে অশান্তি, কেই বা ভাবে। কিন্তু আজ, মার্কিন প্রশাসনের কদর্য নগ্ন চেহারা দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শত শত প্রমাণ নিয়েও তারা পাকিস্তানকে কয়েক বিলিয়ন ডলার আর্থিক সাহায্য দেবে। এবং সেটা কোন সময়ে? যখন গোদের উপরে বিষফোঁড়া হিসেবে পাকিস্তান সরকার তালিবানের সাথে শান্তি চুক্তি করেছে! যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের নিজস্ব টেলিফোন ট্যাপিং যন্ত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উর্ধতন অফিসারদের কথা শোনা গিয়েছে যে তালিবান তাদের ’strategic asset’; এর পরেও যুক্তরাষ্ট্র টাকা দেবে।

আবারও এই টাকা নয়ছয় হবে, তালিবানকে ঠেকানোর নামে এই টাকা তালিবানকেই শক্তিশালি করার কাজে লাগানো হবে। আমেরিকা তাও জানে। ওবামা, যিনি বিশ্বে CHANGE আনবেন বলে মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, তিনিও জানেন আমেরিকার এই অত্যন্ত কদর্য নীতি, কিন্তু, তার পক্ষেও কিছুই করার নেই। আমেরিকা যে ভুল করে ফেলেছে, এখন তাকে আর ফেরানো যাবেনা। তাই ওবামা মূল বিষয়ে কথা না বলে আমেরিকানদের চাকুরির ব্যাপারে বেশী কথা শুরু করেছেন। প্রতি সপ্তাহেই আমেরিকা থেকে ওস্তাদরা আসেন, এটা সেটা সময় কাটানোর কথা বলেই সরে পড়েন। কারন প্রতিকারের রাস্তা তারা একটাই জানেন, সন্ত্রাসবাদকে ভারতীয় ভূখন্ডেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নইলে তাদের বিপদ।

এবং, এই নীতির ফলেই আমেরিকা আজকে সন্ত্রাসবাদের মূল মদতকারী হয়ে উঠেছে। ভারতের আশেপাশের কিছু রাষ্ট্র যারা মজা দেখছে, তাদেরও সুখের দিন বেশীদিন স্থায়ী হবেনা। সন্ত্রাসবাদ এমনই জিনিস যা ক্যান্সারের মতো ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেবে সবাইকে। আজকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইতে ভারত একা। কাল যখন সবার ঘরেই অশান্তি ছড়াবে, সেইদিন হবে আসল পরীক্ষা। সেই দিন আর বেশী দূরে নেই। তালিবান ধীরে ধীরে পাকিস্তানকে কব্জা করলেই তাদের পরবর্তী লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশ। ভারতকে পশ্চিম ও পূর্ব দিক থেকে আঘাত হানার নীতিতে বাংলাদেশের মাটি অত্যন্য জরুরী সন্ত্রাসবাদীদের কাছে। বাংলাদেশও পাকিস্তানের মতোই অস্বীকার নীতিতে দিন কাটিয়েছে বহু বছর। চোখ বন্ধ করে রাখলেই যে শত্রু নেই, এটা যে কতোবড় ক্ষতিকারক নীতি তা একদিন পরিস্কার হয়ে যাবে। আজকের পাকিস্তান অসহায়, তারা যে আগুন জ্বালিয়েছিল তাতেই তারা জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে, এরপরে বাংলাদেশের পালা। বাংলাদেশের মাটি ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাবহারের লক্ষ্যে সন্ত্রাসবাদীরা কতোদূর যেতে পারে তা অনেকের কাছেই অজানা। সাম্প্রতিক কালের বিডিআর বিদ্রোহেই মানুষ আতঙ্কিত বোধ করেছেন, আতঙ্কের রূপ এখনো আরো অনেক দেখা বাকি।

দিনে দিনে সবার কাছেই পরিস্কার হবে আমেরিকার আসল শয়তানি চেহারাটা। সত্যিকারের রাজনীতি কাকে বলে, তা দেখাচ্ছে আমেরিকা। ঠেকানোর লক্ষ্যে ঐক্য একেবারেই নেই উপমহাদেশে। ফলাফল স্বরূপ একদিন কেঁদেও কূল পাবেনা আজ যারা সরে থেকে মজা দেখছেন। আজকের ভুল কালকের প্রজন্মের মৃত্যু ডেকে আনতে চলেছে।

No comments yet

Leave a Reply

Note: You can use basic XHTML in your comments. Your email address will never be published.

Subscribe to this comment feed via RSS